মৌলভীবাজারের বন্যা কবলিতরা ভিক্ষা চায় না

যুক্তরাজ্য প্রবাসীদের কাছে অনুরোধ, জান্নাত কেনার জন্য ধান্ধাবাজদের খপ্পরে পড়বেন না। কতিপয় বাংলা টেলিভিশন চ্যানেলে ভিক্ষার ঝুলি নিয়ে বসে আছে। আর আপনাদেরকে জান্নাত দিয়ে দেবে। মানে আপনারা ২০ বা ৩০ পাউন্ড দিয়ে বেহেস্ত কিনে ফেলবেন?। তা সম্ভব নয়। মৌলভীবাজারের বন্যা কবলিতরা ভিক্ষা চাননা। কতিপয় ধান্ধাবাজরা আপনাদের কাছ থেকে অর্থ আদায় করে নিজেদের পকেট ভারী করছে। মৌলভীবাজার শহরের বন্যায় কবলিত মানুষদের অনেকেই স্বাবলম্বী। সাময়িক বিশুদ্ধ পানি ও শুকনো খাবারের সমস্যায় পড়েছেন। তা জেলা প্রশাসন, পৌর কর্তৃপক্ষ এবং কতিপয় সামাজিক সংগঠন ব্যবস্থা করে দিচ্ছে। এটা দীর্ঘ মেয়াদী নয়।

তারপরও আপনারা সহযোগীতা করতে চাইলে, আপনাদের নিকটাত্মীয় বা আপনার পরিচিত স্থানীয় জনপ্রতিনিধি বা গণ্যমান্য বিশ্বস্ত লোকদের মাধ্যমে সাহায্য করতে পারেন।

যুক্তরাজ্যে গিয়ে কোন না কোন ইস্যু নিয়ে ভিক্ষার ঝুলি নিয়ে আছে কিছু ধান্ধাবাজ। এটা তাদের পেশা। ভালো কথা। কিন্তু মৌলভীবাজারের বন্যা দুর্গতদের জন্য ভিক্ষা চাওয়ার অধিকার তাদের নেই। কে বলছে, তাদেরকে লিল্লাহ বা ভিক্ষা তুলার জন্য। কেউ তাদের বলেনি। নিজেদের পকেট ভারী করার জন্য মানুষের দূর্বলতার সুযোগ নিয়ে ভিক্ষা ব্যবসা করছে। ছিঃ ছিঃ ছিঃ। লজ্জা নেই। ওদের থাকবে কোথা থেকে। লজ্জাহীন লোকের লজ্জা কি?। এটা না করলে, দেশে এসে দামী গাড়ী দৌড়ানো সম্ভব নয়।

মৌলভীবাজার শহরে হযরত সৈয়দ শাহ মোস্তফা (রঃ) মাজার। বিভিন্ন ধর্মীয় দিবসে এবং উরুস উপলক্ষে মানুষের উপচে পড়া ভিড় জমে। আর সেখানে দেখা যায় ভিক্ষুকদের লম্বা লাইন। আমাকে “দুই টা টাকা দাও”, আমাকে দাও। আমি পাইনি। তাদের চিল্লাচিল্লিতে সরগরম হয়ে উঠে দরগা গেইট। তবে মজার বিষয় হলো, ওরা স্থানীয় ভিক্ষুক নয়। ভাড়া করা ভিক্ষুক!। একদিন-একরাতে ওই ভিক্ষুক পাবে ২ শত টাকা। খাওয়া-দাওয়া, ট্রাক ভাড়া মহাজনের। ওই ভিক্ষুক যা আয় করবে, তা সব পাবে মহাজন। যিনি তাদেরকে ভাড়া করে নিয়ে এসেছেন।

প্রিয় ছোট ভাই যুক্তরাজ্য প্রবাসী সাংবাদিক মুনজের আহমদ চৌধুরীর একটি লেখা পড়ে জানতে পারলাম। বিষয়টি আরোও জানার ইচ্ছে হলো।  এক বন্ধুর মাধ্যমে দু’টি টিভি চ্যানেল দেখতে পেলাম। দু’টি চ্যানেলই চ্যারিটি অপিলের মাধ্যমে ভিক্ষার ঝুলির অনুষ্ঠান চালাচ্ছে। মুনজের যা লেখেছে, তা সত্যি।

মনে পড়ে,  বেশ কয়েক বছর আগেও একবার মা-বাবা আছে, এমন ছেলেদের এতিম বানিয়ে চ্যারিটি আপিলের মাধ্যমে অর্থ আদায় করেছিল ইউকে ভিত্তিক এক প্রতিষ্ঠান। সেই নিউজটি করতে সক্ষম হয়েছিলাম। ইউকে ভিত্তিক ঐ প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা মামলার করবে, আরোও কত কি। শেষ পর্যন্ত আর মামলা করার সুযোগ হয়নি হয়তো। কারণ আমার কাছে যথেষ্ট ডকুমেন্ট ছিল।

আপনারা করেন, ইচ্ছে মতো করুন। আমাদের বাঁধা নেই। হয়তো, আপনাদের জন্য হালাল হতে পারে। কিন্তু আমাদের জন্য লজ্জা।

ফোন নাম্বার সংগ্রহ করে কল করলাম। রিসিভ করলেন, এক টেলিভিশনের “ভিক্ষার ঝুলি বা লিল্লাহ আদায়”  অনুষ্ঠানের সঞ্চালক।

প্রথমে ইংলিশ, পরে বাংলায় তাদের প্যাকেজ ২০ এবং ৩০ পাউন্ড ভিক্ষার আবেদন। এ সময় অতিথি হিসাবে বয়ান করছেন আমার সুপরিচিত এক মৌওলানা।

নিজের নাম- পরিচয় দিয়ে জানতে চাইলাম, কি পরিমাণ অর্থ উত্তোলন করছেন, তা বলতে রাজি নয়। একটি নাম্বার দিয়ে বললেন, সেই নাম্বারে ফোন দিয়ে জানার জন্য। এবং ধন্যবাদ দিলেন ফোন দেয়ার জন্য। কিন্তু আমি তাদের কাছেই জানতে চাইলাম, আপনারা কোন সংগঠনের মাধ্যমে ত্রাণ বিতরণ করছেন বা করবেন। সে প্রশ্নের উত্তর এড়িয়ে যান।

আমাকে বললেন, এখন লাইভে আছেন। ফোন বিজি করে রাখলে Problem।

মঙ্গলবার (১৯ জুন)  বাংলাদেশ সময় ভোর ৪টা ৩০ মিনিট।

আমি আরোও জানতে চাইলাম স্নেহভাজন ছোট ভাই সাংবাদিক মুনজের আহমেদ চৌধুরী সম্পর্কে। তাকে চিনেন কিনা?, তাদের উত্তর চেনেন না।

আমি তাদেরকে প্রশ্নই করতে থাকি।  অনেক প্রশ্নের জবাব এড়িয়ে গিয়ে লাইন কেটে দেন।

লেখক: এস এম মেহেদী হাসান

Share Button